কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে জিকে খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে সেতুর দুই পাড়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর কাজ শুরুর সময় কোনো বিকল্প সড়ক বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পরে যানবাহন চলাচলের জন্য একটি কাঠের সাঁকো এবং পথচারীদের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হলেও বর্তমানে দুটিই নড়বড়ে ও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় আশপাশের গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের অধীনে কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী) মেহেরপুর মহাসড়কের আট মাইল থেকে মিরপুর থানা সংযোগ সড়কের জিকে খালের ওপর ৫৭ দশমিক ০৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। আরসিসি ও পিসি গার্ডারসহ ফিঙ্গার আর্চ প্রযুক্তিতে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে কাজের গতি অনেকটাই ধীর বলে জানিয়েছেন কর্মরত শ্রমিকরা। ২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর কার্যাদেশ পাওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ২০২৬ সালের ২০ জুন। প্রায় ১৮ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৪৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। সেতুটি নির্মাণ করছে কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস লিমিটেড ও রানা বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। রানা বিল্ডার্সের ঠিকাদার মো. লিটন খান বলেন, শ্রমিক সংকটসহ কিছু কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হলেও দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, সেতুর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

