সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের যে ৪টি স্পেসিফিক দায়িত্বের কথা বলা আছ, তার মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ভোটার তালিকা প্রণয়ন। নির্বাচন কমিশন যে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে সেখান থেকে বাই ডিফল্ট বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এনআইডি প্রস্তুত হয় এবং নাগরিকগণ সেটা পোর্টাল থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারেন অথবা কমিশন থেকে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করে নেন। সেটার জন্য কোনো আবেদনও করতে হয় না আলাদা ভাবে এবং কোনো ফিও দিতে হয় না। এনআইডির জন্মদাতা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশের যত অর্জন, এন. আই.ডি. তার মধ্যে অন্যতম, এক কথায় বলতে গেলে এটার সঠিকতা ৯৯.৯৯%, এর চেয়ে বিশুদ্ধ কোন ডকুমেন্টস বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই এটা আমি গ্যরান্টি দিয়ে বলতে পারি। ২০০৬-০৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের একঝাক তরুণ কর্মকর্তাদের ঘাম ও রক্তভেজা বেজমেন্টে দাঁড়িয়ে আছে এই এনআইডি।তখনকার কমিশন ও কর্মকর্তাদের এক ইনোভেশন আইডিয়া যে যেহেতু মানুষ ভোটার হতে নিরুৎসাহ প্রকাশ করে, সেক্ষেত্রে এদের একটি জাতীয় পরিচয় পত্র দিলে এটার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এই মর্মে এই এন. আই.ডির শুরু। যখন বাংলাদেশের কোন সরকারি অফিস ল্যাপটপ চোখে দেখেনি, তখনইতো ইউ.এন.ডি.পি এর সহায়তায় প্রাপ্ত কিছু ল্যাপটপ দিয়ে সীমিত সময়ে,সীমিত বাজেটের মাধ্যমে, ভোটার তালিকা হালনাগাদের বাইপ্রোডাক্টস হিসেবে বাংলাদেশের মানুষকে এই জাতীয় পরিচয়পত্রের স্বপ্ন দেখায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। পরবর্তীতে এই এন.আই.ডি স্মার্ট আই.ডি.তে রূপ নেয়। এই এন. আই.ডি. এর মা-বাপ” কিন্তু নির্বাচন কমিশন। অথচ সে একই সময়ে “জন্মমৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তর ” নামে সরকারের অধীনে থেকে আরও একটি ডিপার্টমেন্ট পথচলা শুরু করলেও তারা কিন্তু মাঝপথে পথ হারায়, কোটি মানুষের তথ্য সার্ভার থেকে গায়েব হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় বলেছে জন্ম- নিবন্ধনের কোন মা-বাপ নেই, পাসপোর্টেরও যাচ্ছেতাই অবস্থা সেই আবহমানকাল থেকে, যদিও এন. আই.ডির কল্যানে তারা বর্তমানে সঠিক পথে হাঁটার চেষ্টা করছে। এন.আই.ডির কল্যানেই তো বাংলাদেশ ডিজিটালি এগিয়ে যাচ্ছিল বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে, এই এন.আই.ডি দিয়েই তো সরকারি কর্মকর্তাদের আইবাস ++ এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারন করে ভুয়া বেতন উত্তোলনকারি রোধ করেছে। এই এনআইডির কারনেই সরকারি বড় কর্তাদের বাসাবাড়িতে ফুট-ফরমায়েশ খাটা বেশি বয়স্ক বা ৩০ বৎসরের অধিক বয়ষ্কদের সরকারি চাকরি দেয়া রোধ করা হয়েছে, এটার মাধ্যমেই তো বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং রোধ হয়েছে অনেকখানি এই এনআইডির মাধ্যমেই তো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভুয়া এমপিও বাতিল হচ্ছে, এই এন. আই. ডি. দিয়েই তো পুলিশ অতিদ্রুত মোবাইলের সিম ট্র্যাক করে আসামি গ্রেফতার করছে, এটা দিয়েই তো এন.বি.আর কর আদায় করছে.. আর কত কি বলব?পরবর্তীত পরিস্থিতিতে ঠিক এ সময়ে এন. আই. ডি.কে যেখানে নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে রেখে যাবতীয় লজিস্টিক সার্পোট দিয়ে শক্তিশালী করার কথা, তা না করে কোন অদৃশ্য পক্ষ “এন. আই. ডি.কে ” মা-বাপ হারা করার মতো মাষ্টার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা দেশের আপামর জনসাধারণসহ সকল চিন্তাশীল নাগরিকদের ভাবা উচিত। সন্তান যেমন তার আপন মা-বাবা ছাড়া বাচতে পারেনা, বা সঠিকভাবে মানুষ হয়না, ঠিক তদ্রুপ এনআইডিও তার জন্মদাতা “নির্বাচন কমিশন” ছাড়া বাঁচতে পারবে না। যে কাজ গত ১৭ বছর ধরে নির্বাচন কমিশন সফলভাবে করছে, সিভিল রেজিস্ট্রি কমিশন নামে আলাদা কমিশন তৈরি করে একই কাজে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার কোন মানে হয় না। খসড়া সিভিল রেজিস্ট্রি অধ্যাদেশে যেভাবে একটা কমিশনের কথা বলা আছে তার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া অধ্যাদেশে সিভিল রেজিস্ট্রি কমিশনকে সরকারের নিকট জবাব দিহি রাখা হয়েছে। তারমানে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে এই কমিশন যেতে পারবে না। সিভিল রেজিস্ট্রি কমিশনের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত এন.আই.ডি হবে জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট এর মত। যেখানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি কিন্তু জন্মনিবন্ধন ২০ কোটি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সরকারের নিকট জবাবদিহিতা নেই। তাই সিভিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা প্রণয়নের যে পরিকল্পনা তার সঠিকতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে সিভিল রেজিস্টেশন কার্যক্রম পরিচালনা আবশ্যক। তাই আলাদা “সিভিল রেজিস্ট্রি কমিশন তৈরি না করে নির্বাচন কমিশনের নামের সাথে সিভিল রেজিস্ট্রি সংযোজন করে “সিভিল রেজিস্ট্রি ও ইলেকশন কমিশন” নাম রাখা যেতে পারে। এর মাধ্যমে কমিশন দুটি কাজই করবে। এতে আলাদা কমিশন তৈরির মাধ্যমে নতুনভাবে যে পরিমাণ জনবল, অবকাঠামো ও হাজার হাজার কোটি টাকা অর্থের দরকার হবে তার প্রয়োজন হবে না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সারাদেশব্যপী মানব বন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।