আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুষ্টিয়া। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল চারটার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দাম বাজার মোড় থেকে ‘কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় অংশগ্রহণকারীরা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের ফাঁসি এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি মজমপুর গেট অতিক্রম করে শহরের কেন্দ্রস্থল পাঁচ রাস্তার মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাসেম, কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সভাপতি হাফেজ মাঃ আবু ইউসুফ, গণধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকিক আহমেদ, বৈষ্ণব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বিপ্লবের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং ছাত্র-জনতার অর্জিত বিজয়ের ওপর আঘাত।

বক্তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশ শেষে, পাঁচ রাস্তার মোড়ে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। জানাজা পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মুফতি মাওলানা আমির হামজা। জানাজা শেষে নিহতের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও জানাজায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা দাবি করেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে শরিফের মতো যোদ্ধাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে অঙ্গীকার করেন তারা।


